করোনাভাইরাস চায়নার তিন নাম্বার মাল!   নিয়ে কোন চিন্তা নেই দিনাজপুরের এক অটো চালকের। অন্যদিকে দেশে এক মতির মানুষ আছে যখন যা শুনে তা খায় করোনা ভাইরাসে যেন তাদের আক্রন্ত না করে। আবার জীবন বাঁচানোর সেবা কিংবা ব্যবসা চিন্তায় আদি থেকে বর্তমান সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দিতে চিকিৎসকদের বিশ্রাম নেই।

আমাদের দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্তÍ কয়েকটা রোগী চিহ্নিত হবার পর গত মার্চ মাসের ২০ তারিখে আমি আমার পেইজবুক পেইজে লিখেছিলাম  " আমি সুস্থ  স্বজ্ঞানে এই বলে ইচ্ছা পোষণ করছি যে, সরকার স্বীকৃত কোন প্রতিষ্ঠান হাজারো জীবন বাঁচাতে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল দিতে চাইলে তা গ্রহনে আমি প্রস্তুত আছি" পরবর্তিতে আমার শ্রদ্ধেয় এক শিক্ষক আমায় লিখলেন " ইচ্ছা পোষণ করার জন্য ধন্যবাদ তবে সে ধরণের কোন সম্ভাবনা নাই ". স্যার কোন্ নিরাশা বা আশা থেকে লিখলেন আমি জানি না। 

এই কয়েক দিনে পঙ্গপাল নিয়ে কিছু রঙ্গ ঘটনায় গবেষকদের কান্ড দেখে আমি অবাক না হয়ে পারলাম না ।

দেশের জীববৈচিত্র্য, পতঙ্গ, পতঙ্গের  অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে কোন সংবাদ প্রকাশিত হলে আমি ধৈর্য্য ধরে পড়ি এবং বুঝার চেষ্টা করি। অতি আগ্রহের পিছনে একটি বেদনাদায়ক কাহিনী আছে যা এখানে অপ্রাসঙ্গিক বলে এই বিষয়ে বাড়তি কিছু আর লিখলাম না।

কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। দেশ যখন এক ক্রান্তীকাল অতিক্রম করছে তখন নতুন করে আরেক আতঙ্কের (!) নাম আসল "পঙ্গপাল"।গণমাধ্যমে জানলাম টেকনাফের লম্বারী পাড়ায় সোহেল সিকদারের ভিটে বাড়িতে বাগানে শত শত  বিরল(!) পোকার দল গাছের পাতা নিমিষেই খেয়ে ফেলছে। সংবাদ  পত্রে আরো জানলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের পতঙ্গ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন স্যার বলেন: নতুন ছোট প্রজাতির এই পোকাগুলো যদি পঙ্গপাল হয়ে থাকে এবং সেগুলো যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা আছেন। আরো জানলাম লকডাউনের মধ্যে জীবনে ঝুঁকিতে BARI, BRRI, BINA,FAO এর উচ্চ পর্যায়ের টিম টেকনাফের ঐ ভিটা বাড়িতে যাচ্ছে। এতো দেখি মহাযজ্ঞের আয়োজন! মরার উপর খাড়ার ঘা। দেশের মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে পারে?

হচ্ছেটা কি?  দেশের বর্তমান অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের ঘটনা কার সাথে তুলনা করা যায়? তাঁরা কি কোভিড-১৯ কে তাচ্ছিল্যকারী অটোচালকের মতাদর্শী! জীবন বাঁচাতে মরিয়া যা শুনে তা করা লোক! দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী দলের সদস্য! নাকি আদিষ্ট হয়ে যাওয়া হচ্ছে? বিভাগীয় কিংবা জেলা পর্যায়েও কি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কোন কীটতত্ববিদ নাই? চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে কীটতত্ব পড়ানো এবং এই বিষয়ে কাজ করে এমন অধ্যাপকতো আছেন; চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ^বিদ্যালয়ে DNA barcoding এর মাধ্যেমে পতঙ্গ শনাক্তকরণ সম্ভব।

না, আমি কারো সাথে কারো তুলনা করতে চাইনা। কাজের উৎকর্ষতা, অর্থে অপব্যবহাররোধ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জীবনের ঝুঁকি এড়াতে সামগ্রিক সমন্বয় দরকার।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি  যে, টেকনাফের এ পোকা নিয়ে যেভাবে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে, অন্য কোন দেশ থেকেই বাংলাদেশে পঙ্গপাল প্রবেশ করেনি। এই পোকা ফসল ধ্বংস করে বা ফসলের জমিতেও এ পোকার অস্থিত্বও আছে এমন প্রমান পাওয়া যায়নি। Village Common Forest এ কাজ করার সময় এই ধরনের ঘাসফড়িং সদৃশ পতঙ্গ নীফ্ অবস্থায় দেখতাম। ফিল্ড থেকে বেশ কয়েক দিন পরেই ল্যাবে ফেরা হতো, ততোদিনে নমুনাগুলো কাজের অবস্থায় থাকতো না, DNA barcoding এর জন্য হয়তো নমুনা সংরক্ষণ করা যেত কিন্তু সে সুযোগ তখন কোথায় পেতাম? উপকারী কিংবা অপকারী সব ক্ষেত্রে শনাক্তকরণ যথাযথ ভাবে না হলে কোন প্রজাতির নিয়ন্ত্রন অথবা সংরক্ষণ সম্ভব নয়। নমুনা ছাড়া এই পতঙ্গগুলোকে কোনো নামে ডাকতে চাইনা। এইটুকু বলতে পারি এই পোকাগুলো একটু ছায়াময়, কম রোদের জায়গা এরা পছন্দ করে। এরা তৃণভোজী। পতঙ্গভ’ক প্রাণীরাই এদের নিয়ন্ত্রনের জন্য যথেষ্ঠ। তবে মাত্রাতিরিক্ত হলে পরিবেশ বান্ধব কীটনাশক দেয়া যেতে পারে।

সুতরাং শষ্যাদি ধ্বংসকারী পঙ্গপাল বলে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই, এ পতঙ্গ এদেশেরেই।

কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম বলেন, পোকাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, পোকার ভিডিও ধারণ করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণার বিজ্ঞানীর কাছে পাঠিয়েছেন। গতকাল (১মে) কৃষি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঐ পোকাগুলো মরুভ’মি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা পঙ্গপালজাতীয় কোনো পোকা নয় বলে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই বললেও দৌড়াদৌড়ির কমতি নেই। আমি আবার বলি, ঘটনা যেখানেই হোক স্থানীয় বা নিকটবর্তী অভিজ্ঞজনের পরার্মশ গ্রহন, প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত ব্যবহার, কাজে সমম্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে চলুন।

ভিনদেশী পঙ্গপাল শত্রæ নিয়ে না হয় আক্রমণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণের জন্য  এতো আয়োজন, দেশীয় কত পতঙ্গ শত্রæ আছে সেগুলোর যথাযথ ভাবে শনাক্তকরণ হচ্ছে কি? তাদের আক্রমণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবেশ বান্ধব কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে? শত্রæ পোকা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বড় থেকে অতিক্ষুদ্র শত প্রজাতির মিত্র পতঙ্গ এবং অন্যান্য প্রাণীর জীবন যেন হুমকির মধ্যে না পরে সেদিকে নজর দেয়া অত্যাবশ্যক। পরিবেশের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করলে প্রকৃতি আমাদের ক্ষমা করবে না।


Previous Post Next Post