উৎসর্গ: মৌলিক বিজ্ঞানের নক্ষত্র অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলাম স্যারকে যাঁকে আমি দেবদূত জ্ঞানে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই সব সময়।



১. বার্তা


আপন কিরণে রাঙাল রবি সকল সৃষ্টি মাঝে
কোন ইঙ্গিতে ভূবন সাজিল চমকপ্রদ সাজে
উদিত রবি দেখিলাম কত
 এমন রূপ কভু দেখি নাই     
আনিছে কোন বার্তা আজি
আধাঁর কাটিয়া প্রভাতে ভাই?

আকাশের রঙে রাঙানো জলে
দুলিছে শতদল মৃদু টলোমলে
শীতল পবন জুড়িছে দেহ,
আজিকে দূর্বার রূপ দেখিছে কেহ?

কেন এত মধুর বিহঙ্গের সুর
গাহিছে গান উল্লাসে,
দেখ চাহিয়া ঐ বলাকার ঝাঁক
উড়িছে কেমনে মুক্তাকাশে।
মধুকর আজি কি আনন্দে
নৃত্যে কুসুম কাননে।

মাধবী-শিউলী সাজিয়েছে আসন
ছাড়িয়া আপনারে নিজ কুঞ্জনে।
ছল ছল ছন্দে মধুর আনন্দে
বহিছে  স্রোতস্বিনী আপন রঙ্গে
বিলিয়ে বারি নিজেকে হারি
মিলিবার বাসনায় সাগরে।

নেই কোন ভয়, নেই সংশয়
কি আনন্দ সবারে মাঝে
এতরূপ কভু আগে দেখিনাই
কার বার্তা আনিল ধরায়
আধাঁর কাটিয়া ভাই?

২. প্রেম
প্রেম! সেকি বিবাকানন্দের নর নারায়ন সেবা
ভুলে গেল যেথায় ক’লভেদ কামার-কুমোরে,
ডোম-জেলে, শ্রমিক আর ধোপা চামারে।
জীব প্রেমে নিয়ত ঈশ্বর সেবা
দেহ! সে তো মন্দির, হৃদয়ে ইষ্ট দেবতা।
প্রেম! প্রাণধনের কপালে মায়ের তৃপ্তিময় চুমু
শঙ্কায় প্রহরগুণে, অশান্ত মন
চোখের আড়ালে গেলে সন্তান।

প্রেম! সে কি হৃদয়শ্যাম কাছে পাওয়া
আক’ল আবেদন ব্যাক’ল হৃদয়ে
অপলক দৃষ্টিতে শ্রীমতি রাধা রাণীর পথ চাওয়া?
আত্মা-পরমাত্মা মিলনের লীলা।

প্রেম! মাতৃভূমি স্বাধীন করতে মৃত্যুকে বরণ করা।
সয়ে যাওয়া সব কষ্ট বেদনা,
দেখে ফুলের হাসি মুক্ত বাগানে
এতোটুকু শান্তি, সুখের সংসারে,
প্রিয় দেশ, প্রিয় ঠিকানায়।

প্রেম! সেকি নিরাশ হৃদয়ে আশার আলো?
হতে পারে বন্ধু-বন্ধুতে, মনিব-চাকরে,
শিক্ষক-ছাত্রে কিংবা কোন যুগলে।

হ্যাঁ, প্রেম সুন্দর সৃষ্টির নিগূঢ় শক্তি।
শিহরণ, গভীর স্পন্দন হৃদয়ের
 কাছে আসার, কাছে পাওয়ার সাধ,
মিলন মহামিলনের আত্মায় আত্মায় বন্ধনের।

৩. ছোট স্রষ্টা
স্বাগত জানাই আমি, স্বাগত জানাই।
বিজয় কেতন উড়িয়ে যারা সামনে এগিয়ে যায়।
হয়তো ফিরবে না, দেখা আর হবে না
হারিয়ে যাবে নব সৃষ্টিতে, নব পথের সন্ধানে।
স্বাগত জানাই আমি, বিজয়ের গান গায়
তাঁরা অভিযাত্রী, স্রষ্টার ছোট স্রষ্টা সৃষ্টিতে চলে
তাঁরা গায় সুন্দরের গান, জীবনের গান।
নাচে তাঁদের প্রাণ তারুণ্যের ঊর্মিমালায় ।
সত্য-স্বপ্ন চোখে, ছুটে চলে অসীমে,
গন্ডী, কপটতা-মিথ্যা পদতলে,
রণসঙ্গীত মর্ত্য-গগনে।
আলোক বর্তিকা হাতে, ঘুচাবে অন্ধকার
নতুনের আশায়, সত্য সন্ধানে
যায় তাঁরা ছুটে যায়।
স্বাগত জানাই আমি সেই অদম্য, গায় বিজয়ের গান।
জয়তুঃ মৃত্যুঞ্জয়ী তাঁরা, এগিয়ে যায় নবীন, নব অভিযানে
তোমাদের পানে দেখেছি চেয়ে,
শুনতে অপেক্ষায় পদধ্বনি, বিস্ময়কর সৃষ্টি কণায়।
মহান তাঁরা, স্বাগত জানাই,
গায় বিজয়ের গান ছোট ¯্রষ্টার লাগি, গ্রহন করেছে যাঁরা ব্রত সত্যায়ন।

৪. স্মরণ
বন্দে নত শিরে, ভক্তি  প্রেম ভরে
কপাল ঠেকিয়ে ধরায়।
বর্ণিতে তবকীর্তি, আছে কিবা মম শক্তি
ইচ্ছা কভু মানেনা হায়, বিশাল জয় মজিয়ায়।
অব্যক্ত থাকিয়া প্রভু, ব্যক্ত করিবারে  
তব শক্তি সদা শৃঙ্খলে গড়ে।
রসসুধা জলে-শূন্য ডুবিছে অনিলে
মৃত দেহে জীবন দানে, সাজাইলে সংসারে।
সুশোভিত ধরা- সম্পদে ভরা
সৃজিলা গ্রহ নক্ষত্র প্রকাশে দিবাকর।
নিশিতে শশি জাগিয়া গগনে,
স্মরিতে তোমায় জনমে নরা-নর।
পরমাত্মা জীব দেহে, বুঝিতে কে পারে!
কৃপাসিন্ধু, রাম-রহিম ডাকে যেতায়।
তুমিই যে পতি, অসংখ্য ব্রহ্মান্ডে,
মৃত্যু দর্শাইয়া দাও স্মরাই,
কখনও মহাজন, কৃপাতে নিরঞ্জন
প্রচারে জীব তরে।
কেমনি ভোগীবে জীবন, রাখিয়া তোমাতে মন
ইহকাল পরকাল পরে।

৫.  প্রত্যাশা
নিয়তীই  যে পরণিতি, আমার যাওয়া নয়তো চির তরে
আসিব ফিরে আমি, আসিব ফিরে ।
সত্য, সুন্দর ভুবন গড়িবার তরে
পাবে আমায় খুঁজে পাবে
ঐ নবীন নবাগতের ভীড়ে।

ক্ষণিকের বিদায়ে জানি অশ্রæ গড়াবে ।
শোক করোনা, নয় অনুতাপ।
শূন্য হৃদয় পূর্ণ করিবারে
আসিব ফিরে আমি আসিব ফিরে।
খুঁজে নিও আমায় তুমি
প্রত্যয়ে যেথায় জীবন বাড়ে।
সৃষ্টির উল্লাসে বয়ে বেড়ারব হয়তো নদী হয়ে
ধরণীর এপাড় হতে ওপাড়ে,
উজান হতে ভাটিতে।
নব জাগরণের ঢেউ হয়ে হয়তো সৃষ্টি হবো সাগরে।

৬. সত্তা
মৃত্যু সত্য, সনাতন যা ছিল, আছে, থাকবে।
জন্মের মৃত্যু অবধারিত, চিরন্তন জগতে।
নেই মুক্তি যে থাকুক যেখানে,
নেই নিস্তার, নেই নিস্তার ।
ওহে! ভয় পেয়েছো? শোকান্বিত তুমি!
আন বৈরাগ্য বৈষয়িক বিষয়ে, সহ্য কর শোক দৃঢ়তায়।
যা মানতেই হবে তা গ্রহনে থাক প্রস্তুত, গ্রহন করো অবলীলায়।
স্মরণ কর তাঁরে, আস্থা আছে যাঁরে, অভয় নিমিত্তে।
জয়ের চেষ্টা কর প্রানপণে, অপেক্ষায় থাক তারে আলিঙ্গনে ।

দেহ নাশের সাথে কি সব শেষ?
না! যাদের দেখছ-একটু গভীরে ভাবো।
দেহের পরিবর্তন দেখ প্রতিনিয়ত।
উপলব্ধি কর দেহের ভিতরে সত্তার,
দেহকে জীবিত রাখে যা, চিনে লও তারে।
মৃত্যঞ্জয়ী হও জগতে কর্ম সাধন মাঝে।

৭. অগ্রসর  
ব্রহ্মান্ড! এক সূর্য, কত গ্রহ!
অমোঘ নিয়তিতে গ্রহের প্রদক্ষিণ সূর্যের চারিধারে।
এখানেই গ্রহের বেঁচে থাকা যুগান্তরে।

বেঁচে থাকার স্বপ্ন-স্বাধীনতার তরে জন্মে
এমন সূর্য জীবের জগতে ক্ষণে ক্ষণে।
তাঁরা জন্মে অন্যের জন্য মৃত্যু মুঠোয় করে,
জানে তাঁরা তাঁদের দেহের পরিণতি,
নির্যাতন, নিপীড়ন, বয়ে যাবে রক্তগঙ্গা।
তবুও যে তাঁরা বীর, তাঁরা মৃত্যুঞ্জয়ী।
মুত্যুকে আলিঙ্গন করতে জানে সাহসীকতায়
আশার প্রভা মুখে হাসি ফোঁটায়,
স্বপ্ন দেখায়, হৃদয় রাঙায়,
এক সূর্য হারিয়ে যাবার বার্তায়।

বীজ বুনে নতুন প্রজন্মের
একদিন একসময় কেটে যাবে তিমিরে
ফুটবে আলো, জাগবে জীবনে
শান্তির পায়রা উড়বে উড়বে নীল শূন্যে।
মুক্তি হবেই হবে, স্বাধীনতা আসবে, আসবে  সুশাসন।
নিশ্চিহ্ন হবে অত্যাচারী, রক্ত চুষা জানোয়ার।
এখানেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আধার।
তাঁরা অমর, বেঁচে থাকবে চিরকাল।
বারে বারে আসবে জন্ম জন্মান্তরে
আলো জ্বালাতে যুগান্তরে
তাঁরাই উড়িয়ে যায় মুক্তির নিশান
আগামীর অগ্রসর ও প্রগতিশীল ভাবণায়।
Previous Post Next Post